নীতিবিদ্যা ও আইন বলতে কি বুঝায়

দর্শন

নীতিবিদ্যা একটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান। এটা নৈতিক আদর্শের আলোকে সমাজের মানুষের আচরণ মূল্যায়ন
করে থাকে। আইন হচ্ছে সাধারণত কতকগুলো নিয়ম যা সাধারণত সমাজে বসবাসরত মানুষ মেনে চলে এবং আইনের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে। নৈতিক নিয়ম ও আইন সমাজ এবং রাষ্ট্রের সুষ্ঠু এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষভাবে সহায়তা করে । নীতিবিদ্যা এবং আইন একে অপরের ওপর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

নীতিবিদ্যা ও আইন বলতে কি বুঝায়


নীতিবিদ্যা : নীতিবিদ্যা সাধারণত আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞান। নীতিবিদ্যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘Ethics’; যা গ্রিক শব্দ ‘Ethica’ হতে উদ্ভূত। সমাজে বসবাসরত মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা কি হওয়া উচিত তা নিয়ে নীতিবিদ্যা আলোচনা করে থাকে । নৈতিক আদর্শ এবং নৈতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে সমাজে বসবাসরত মানুষের
আচরণ মূল্যায়ন করে। মানুষ যেহেতু সামাজিক জীব সমাজ ব্যতীত মানুষের জীবন কল্পনা করা যায় না। এরিস্টটল বলেছেন যে, যে ব্যক্তি সমাজের সাথে একত্রে বসবাস করে, তার আচরণ সমাজের অন্য মানুষের আচরণের উপর প্রভাব ফেলে। ব্যক্তির নৈতিক জীবন উন্নত হলে সমাজের উন্নয়নে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তাই দেখা যায় যে, নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণ সম্পৰ্কীত বিদ্যা। নীতিবিদ্যা মানুষের আচরণের মূল্যায়ন করে থাকে। নৈতিক আদর্শের
মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, উচিত-অনুচিত প্রভৃতি মূল্যায়ন করে থাকে । উইলিয়াম লিলি নীতিবিদ্যার সংজ্ঞায় বলেন যে, “নীতিবিদ্যা হচ্ছে সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ সম্পৰ্কীয় এমন একটা আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান যা এই আচরণকে ন্যায় বা অন্যায়, ভালো বা মন্দ বা অন্য কোনো একই ধরনের পন্থায় বিচার করে।” [William Lillie, In Introduction to Ethics, London, 1966.] সুতরাং নীতিবিজ্ঞান হচ্ছে আচরণ সম্পর্কীয় বিজ্ঞান ।


আইন : আইন বলতে সাধারণত কতকগুলো নিয়ম-কানুনকে বোঝায়। আইন শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে ‘Law’ আইন হচ্ছে কতকগুলো নিয়ম-নীতি যেগুলো সমাজে বসবাসরত মানুষ মেনে চলে। সুতরাং আইন হচ্ছে সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রচলিত কতকগুলো নিয়ম-নীতি যেগুলোর প্রতি মানুষ আনুগত্য প্রকাশ করে এবং মেনে চলে। আইন একটি ফার্সি শব্দ । আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’ টিউটনিক ‘Lag’ শব্দ থেকে এসেছে। রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত যেসব বিধি-নিষেধের প্রতি মানুষ আনুগত্য স্বীকার করে এবং মেনে চলে তাই আইন। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের জনক এরিস্টটল বলেন, “আইন হলো পক্ষপাতহীন যুক্তি ” জন অস্টিন এর মতে, “আইন হলো অধস্তনের প্রতি উর্ধ্বতন রাজনৈতিক কর্তৃত্বের আদেশমাত্র।” অধ্যাপক হল্যান্ড বলেন, “আইন হলো সেসব নিয়মকানুন ও যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে ও সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ দ্বারা বলবৎ করা হয়।”
সুতরাং উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোর আলোকে বলা যায় যে, আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত নিয়ম-কানুন যেগুলো মানুষ মেনে চলে এবং আনুগত্য স্বীকার করে এবং এসব নিয়ম-কানুন ভঙ্গ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয় সাধারণত সেসব নিয়ম-কানুনকে আইন বলা হয়।

নীতিবিদ্যা নৈতিক আদর্শের আলোকে মানুষের আচরণ মূল্যায়ন করে থাকে। আইন সমাজ বা রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কতকগুলো নিময়-নীতি। যা মানুষ মেনে চলে। আইন ও নৈতিকতা সুষ্ঠু সুশৃঙ্খল জীবন ও সমাজ গঠন করতে সহায়তা করে থাকে। তাই দেখা যায় যে, আইন ও নীতিবিদ্যা একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তবে নীতিবিদ্যা ও আইনের মধ্যে বেশ পার্থক্যও লক্ষণীয়|



About author

saikat mondal

Welcome to www.banglashala.com. Banglashala is a unique address for Bengali subjects. banglashala is an online learning platform for Bengalis. So keep learning with us




Leave a Reply

one × five =