aus বনাম eng ক্রিকেট ম্যাচ

Cricket world

অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বিখ্যাত এবং চিরকালীন প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলির মধ্যে একটি। এটি ক্রিকেট বিশ্বে “দ্য অ্যাশেজ” নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচগুলি সবসময় উত্তেজনা ও রোমাঞ্চে ভরা থাকে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল কারণ হলো ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং খেলাধুলার মধ্যে লুকিয়ে থাকা উত্তেজনা।

১. ইতিহাস

অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচ ১৮৭৭ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম টেস্ট ম্যাচটি জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। এরপর থেকেই এই দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। ১৮৮২ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক জয় এবং ‘দ্য অ্যাশেজ’ এর সূচনা ঘটে।

২. দ্য অ্যাশেজ

‘দ্য অ্যাশেজ’ প্রতিযোগিতাটি টেস্ট ক্রিকেট সিরিজের নাম। এটি দুই দেশের মধ্যে খেলা হয় এবং একটি উল্লিখিত ট্রফির জন্য প্রতিযোগিতা হয়। এটি পাঁচ ম্যাচের একটি সিরিজ এবং প্রায়ই প্রতি দুই বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়।

৩. প্রধান ম্যাচ এবং সিরিজ

এই প্রতিযোগিতার বিভিন্ন সময়ে কিছু উল্লেখযোগ্য সিরিজ ও ম্যাচ রয়েছে যা ক্রিকেট প্রেমীদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।

৩.১ ১৯৩২-৩৩ বডিলাইন সিরিজ

এই সিরিজটি অত্যন্ত বিতর্কিত ছিল। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ডগলাস জার্ডিন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান ডন ব্র্যাডম্যানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ‘বডিলাইন’ বোলিং কৌশল ব্যবহার করেন, যা মাঠে এবং মাঠের বাইরে প্রচুর বিতর্ক সৃষ্টি করে।

৩.২ ১৯৪৮: ডন ব্র্যাডম্যানের শেষ অ্যাশেজ সিরিজ

ডন ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া দল, যা ‘ইনভিন্সিবলস’ নামে পরিচিত, ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডে একটি টেস্ট সিরিজ খেলে এবং একটি ম্যাচও না হেরে সিরিজ জিতে নেয়। ব্র্যাডম্যানের শেষ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া তার টেস্ট গড় ১০০-র নিচে নিয়ে আসে, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।

৩.৩ ১৯৮১: বোথামের অ্যাশেজ

এই সিরিজটিতে ইংল্যান্ডের ইয়ান বোথাম অসাধারণ পারফরমেন্স প্রদর্শন করেন, বিশেষ করে হেডিংলিতে খেলা তৃতীয় টেস্টে। বোথামের ব্যাটিং ও বোলিং এবং বব উইলিসের বোলিং ইংল্যান্ডকে এই সিরিজ জিততে সাহায্য করে। এই সিরিজটি ‘বোথামের অ্যাশেজ’ নামে পরিচিত।

৪. বিখ্যাত খেলোয়াড়

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাসে অনেক বিখ্যাত খেলোয়াড় উঠে এসেছে।

৪.১ স্যার ডন ব্র্যাডম্যান (অস্ট্রেলিয়া)

ডন ব্র্যাডম্যানকে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার অসাধারণ ব্যাটিং দক্ষতা এবং পরিসংখ্যান তাকে ইতিহাসের অংশ করে তুলেছে।

৪.২ স্যার ইয়ান বোথাম (ইংল্যান্ড)

ইয়ান বোথাম একজন অলরাউন্ডার হিসেবে খেলার ইতিহাসে তার নাম অমর করে রেখেছেন। বিশেষ করে ১৯৮১ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তার অসাধারণ পারফরমেন্স তাকে কিংবদন্তি করে তুলেছে।

৪.৩ ১৯৯৩: শেন ওয়ার্নের ‘বল অফ দ্য সেঞ্চুরি’

১৯৯৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে শেন ওয়ার্ন তার প্রথম বলেই মাইক গ্যাটিংকে আউট করেন, যা ‘বল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ নামে খ্যাত। এই বলটি ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম সেরা ডেলিভারি হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ওয়ার্নের ক্যারিয়ার শুরু হয় কিংবদন্তি হয়ে।

৫. সিরিজের ফলাফল

প্রতিটি অ্যাশেজ সিরিজের ফলাফল ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বিশেষ স্থান দখল করে। বিভিন্ন সিরিজের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায় কখনো ইংল্যান্ড, কখনো অস্ট্রেলিয়া বিজয়ী হয়েছে।

৬. সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রভাব

অ্যাশেজ সিরিজ শুধুমাত্র একটি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুই দেশের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবনের অংশ। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা এবং আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে।

৭. সাম্প্রতিক বছরগুলো

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যাশেজ সিরিজে আধুনিক খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালের অ্যাশেজ সিরিজে স্টিভ স্মিথ এবং বেন স্টোকসের অসাধারণ পারফরমেন্স এই সিরিজকে স্মরণীয় করে তুলেছে। স্টিভ স্মিথের ব্যাটিং এবং বেন স্টোকসের হেডিংলিতে খেলা তৃতীয় টেস্টে তার অসাধারণ ইনিংস এই সিরিজকে অন্যতম সেরা করে তুলেছে।

৮. ভবিষ্যত

অ্যাশেজ প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে থাকবে। দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডগুলি এই প্রতিযোগিতাকে আরও জনপ্রিয় এবং দর্শকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।

অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ড ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবলমাত্র একটি খেলা নয়, এটি দুটি জাতির গৌরব এবং মর্যাদার প্রতীক। ক্রিকেটের ইতিহাসে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবিস্মরণীয় এবং চিরকালীন হয়ে থাকবে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সিরিজ, এবং প্রতিটি ম্যাচ ইতিহাসের অংশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে স্মরণীয় থাকবে।



About author

saikat mondal

Welcome to www.banglashala.com. Banglashala is a unique address for Bengali subjects. banglashala is an online learning platform for Bengalis. So keep learning with us




Leave a Reply

three × one =